সাইফুল ইসলাম রিয়াদ: চাটখিল পৌরসভার কাজে ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ, স্কিড স্টিয়ার লোডার, ট্রাক, পিকআপ, রোলার সহ বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন থেকে চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিতভাবে যত্রতত্র থেকে নষ্ট হচ্ছে।
কিছু গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চাটখিল পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাটখিল উপজেলা পরিষদ মসজিদের সামনে গত দুই বছর থেকে পড়ে আছে ‘স্কিড স্টিয়ার লোডার’ নামের যন্ত্র সাদৃশ্য একটি গাড়ি যার বাজার মূল্য ৭০ লক্ষ টাকা বেলারুশ থেকে আমদানি করা এই গাড়িটি চাটখিলে নিয়ে আসার পরে এক মিনিটের জন্য ব্যবহার হয়েছে এমন কেউই দেখেনাই। এমনকি এই গাড়িটি কি কাজে ব্যবহার হয় তা ও জানে না অনেকেই।
চাটখিল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন তরফদার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই যন্ত্র সাদৃশ্য গাড়িটি থেকে ১০০ মিটার দূরে আমার বাসা, দুই বছর আগে সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় এই গাড়িটি এখানে আনা হয়েছে তখন দেখেছি এটি একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র সাদৃশ্য গাড়ি। শুনেছি গাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার মতো তবে এই গাড়িটি কখনো ব্যবহার হতে দেখি নাই, কি কাজের জন্য আনা হয়েছে তাও জানিনা।

উপজেলা পরিষদ মাঠে পড়ে থাকতে দেখা গেছে আরও দুইটি ট্রাক যে গুলো দীর্ঘদিন থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে যার কারণে চাকা সহ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যে মাটির সাথে বসে গেছে।
চাটখিল পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান উপজেলা পরিষদের ভিতরে আমার বাসা, উপজেলা মাঠে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন থেকেই ট্রাক দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখছি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আমি চার-পাঁচবার দোকানে এবং বাসায় আসা-যাওয়া করি। আমি কখনো দেখি নাই এ ট্রাক দুটি ব্যবহার হতে।
চাটখিল পৌর বাজারে অবস্থিত চাটখিল মহিলা ডিগ্রী কলেজের সামনে গিয়ে দেখা গেছে একটি ট্রাক ও একটি রোলার যেগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যে চুরি হয়ে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ওষুধ ব্যবসায়ী মোঃ রুবেল জানান দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় থেকে একটি ট্রাক অব্যবহৃত অবস্থায় এখানে পড়ে আছে যেটি অধিকাংশ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। সাথে পড়ে আছে আর একটি রোলার যেটি এক বছরের বেশি সময় থেকে এখানে পড়ে আছে রোলাক টি সিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন ট্রাক ও রোলারটি দেখেতে পৌরসভা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কখনো আসছে দেখেনাই।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে পড়ে আছে আরও একটি রোলার, সেই রোলারটি ও গত দুই বছরে কোথাও ব্যবহার হতে দেখেনি পৌরসভার বাসিন্দারা।

পৌরশপিং কমপ্লেক্স এর পাশে ১৫ বছরের বেশি সময় থেকে পড়ে আছে আরো একটি রোলার যার উপরে রীতিমতো হয়ে গেছে একটি চায়ের দোকান।
রোলারটির উপরে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া জানান ২০০৬ সাল থেকে রোলার টি এখানে পড়ে আছে, আমাদের দোকান না থাকলে অনেক আগেই রোলারটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে খুলে নিয়ে বিক্রি করে ফেলত।
অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হওয়া গাড়িগুলোর বিষয়ে চাটখিল পৌরসভার সচিব আলতাফ হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্কিড স্টিয়ার লোডারটি চাটখিল পৌরসভার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠিয়েছে। এটা আমরা চাটখিল পৌরসভার টাকা দিয়ে কিনতে হয় নাই। আমরা মেশিনটি মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি এখন মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব। চারটি ট্রাক ও তিনটে রোলার পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে অযত্ন অবহেলায় কেন পড়ে আছি এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি
চাটখিল পৌরসভা মেয়র নিজাম উদ্দিন কোটি টাকার সম্পদ বিভিন্ন জায়গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে চাকিল পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, এই গাড়ি গুলো রাখার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট কোন গেরেজ নাই, আমি মনে করি এটা পূর্ববর্তী মেয়র গণের ব্যর্থতা, আই পৌরসভার কর্মকর্তাদেরকে ইতিমধ্যে এ ধরনের সকল গাড়ির একটি তালিকা তৈরি করতে বলেছি। এই বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।


✍️ মন্তব্য লিখুন