সাইফুল ইসলাম রিয়াদ: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার এক ক্ষুদ্র কৃষক তার উৎপাদিত ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে না পেরে চরম হতাশা ও আর্থিক সংকটে পড়ে প্রতিবাদস্বরূপ ধান পুড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিপুল অর্থ ব্যয় করে উৎপাদিত ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে না পেরে তিনি মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধান বিক্রির চেষ্টা করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় তিনি এ প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, তার এই কর্মসূচির মাধ্যমে একজন কৃষকের বাস্তব সংকট ও দুর্ভোগ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ ১৮ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ, বিকাল ৪টা সময় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ধান পুড়িয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এ কর্মসূচিতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবসহ সকল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিত থেকে বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ পরিবেশনের জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মোঃ মোরশেদ আলম (পিতা: হারুন অর রশিদ) চাটখিল উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ করছেন কৃষকরা। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে বেপারীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে কৃষকদের মধ্যে।
সম্প্রতি নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এক জনসভায় ধান ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।



✍️ মন্তব্য লিখুন