সাইফুল ইসলাম রিয়াদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট সাতজন প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত জহিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. নুরুল আমিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত মো. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত মো. মমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত রেহানা বেগম।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যারিস্টার খোকনের বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা থাকলেও অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার হয়েছে এবং কয়েকটির কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি মামলার মধ্যে অধিকাংশেই তিনি খালাস অথবা অব্যাহতি পেয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে তিনি সবচেয়ে সক্রিয় প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনী এলাকার সবগুলো ইউনিয়ন ও গ্রামে দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, পথসভা ও সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি। ফলে প্রচার-প্রচারণায় জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে রাজনীতি ও ভোটের মাঠে বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হওয়ায় সপ্তাহের শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া তাকে নির্বাচনী মাঠে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তবে তার অনুপস্থিতির মধ্যেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন। পড়ালেখার সুবাদে যুক্তরাজ্যে গিয়ে তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে ব্যবসায় যুক্ত হন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেন। যদিও তাকে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে তেমন দেখা যাচ্ছে না, তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় হাতপাখা প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্যান্য প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে মূলত জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নোয়াখালী-১ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৫৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৮ জন। নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী।