সাইফুল ইসলাম রিয়াদ: নোয়াখালীর চাটখিল দলিল লেখক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা সমালোচনা ও প্রশ্ন।
জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭৯ জন, যাদের সবাই সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক। রাজনৈতিকভাবে ভোটারদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছিলেন ৩৬ জন, বিএনপি সমর্থিত ২৭ জন এবং জামায়াত সমর্থিত ১৫ জন।
নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে মোঃ স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আনিছ আহম্মদ পান মাত্র ১২ ভোট। এতে করে বিএনপি সমর্থিত ভোটের একটি বড় অংশ কোথায় গেছে—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
পরাজিত প্রার্থী আনিছ আহম্মদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোট কেনাবেচার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে একাধিক ভোটারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটার ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে ভোট দিয়েছেন।
তিনি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী প্রার্থীর ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ১৮ জুন থেকে ভোটগ্রহণের দিন সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোন ও লোকমাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। এর ফলে তিনি প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি এবং নির্বাচনটি সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাটখিল দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবদুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে আগামীকাল ২২ জুন সোমবার দুপুর ১২টায় চাটখিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, “উক্ত শুনানিতে আমরা দলিল লেখক সমিতির সকল ভোটার ও প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। অভিযোগকারী প্রার্থী যদি এই বিষয়ে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।”
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে এমন অভিযোগে চাটখিল এলাকায় রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।