নোয়াখালীর বার্তা ডটকমঃ কুয়েতের গ্রেফতার এমপি পাপুলের বিচার দাবি করেছেন কুয়েত থেকে ফেরা ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েত নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করতো তাদের। কুয়েত সিআইডির কাছে পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে দেশে ফিরে গণমাধ্যমকে জানান তারা।

এদিকে, পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশের সিআইডি। দুদকও তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে ৬ জুন কুয়েতে গ্রেফতার করা হন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। গ্রেফতারের পর রিমান্ডে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। ইতিমধ্যে পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১১ প্রবাসী বাংলাদেশি। সেখানেও উঠে আসে নানা তথ্য।

সাক্ষ্য শেষে দেশে ফিরে দুজন ভুক্তভোগী জানান, প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েত নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করতো পাপুলর লোকজন। দাবি করেন, এমপি পাপুলের বিচার।
ভুক্তভোগী আব্দুল আলীম বলেন, ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করে ১০০ টাকা দিতো আমাদের। আর যখন বলতাম আমি এই ডিউটি করবো না তখন আমাদের মারধর করতো। আমাদের দাবি, তার কাছে আমরা যেসব টাকা পাই তা যেন দিয়ে দেয়। আর বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ তাকে যেন উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হয়।
পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অর্থপাচারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে দেশের সিআইডি। ইতিমধ্যে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত বিভিন্ন নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, কুয়েতের আদালতে যদি সাকসেসফুল প্রসিকিউশন হয়, অপরাধ প্রমাণিত হয়, সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং অন্তত যদি দু বছরের সাজা হয়, সেই আদালতের রায়ের জন্য বাংলাদেশে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হবে কিনা এ ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো কিছু আমাদের সংবিধান নাই।
এদিকে মানব ও অর্থপাচারে সহযোগী হিসেবে দেশটির দুই সরকারি কর্মকর্তাসহ তিন জনকে ঘুষ দেয়ার কথা রিমান্ডে স্বীকার করেছেন পাপুল। মঙ্গলবার, আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচারে সহায়তা করায় ওই তিন কর্মকর্তাকে চেক ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ কুয়েতি দিনার দিয়েছেন পাপুল।
কুয়েতে মানবপাচারের অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৫ বছরের জেল হবে পাপুলের। এতে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না বলে মনে করেন আইনজীবীরা।